চলতি বছর বিশ্বব্যাপী চিনি ছাড়া অন্য সব ধরনের খাদ্যপণ্যের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। এর মধ্যে কয়েকটির উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এফএওর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ধান, ভুট্টা, জোয়ার ও তেলবীজের বৈশ্বিক উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, ‘কৃষিপণ্য উৎপাদনের ধারা ইতিবাচক হলেও বিষয়গুলো খাদ্যনিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা বাড়ছে।’
এফএও জানায়, চলতি বছর গমের বৈশ্বিক উৎপাদন কিছুটা বাড়বে। খাদ্যশস্যটির উৎপাদন বাড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখবে অনুকূল আবহাওয়ার প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় ফলন বৃদ্ধি। এছাড়া ভারতে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে রেকর্ড গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছর খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ইইউ-ভুক্ত দেশগুলো।
জাতিসংঘের সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ভুট্টা উৎপাদন বাড়তে পারে ৬ শতাংশ। দেশটিতে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বৃদ্ধি খাদ্যশস্যটির মোট উৎপাদন বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এ সময় অনুকূল আবহাওয়ার প্রভাবে উৎপাদন বাড়বে।
এফএওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বে চলতি বছর চাল উৎপাদন দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৫৫ কোটি ১৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। আফ্রিকার দেশগুলোয় শক্তিশালী চাহিদা এবং ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকার রফতানি বাড়ার কারণে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী চালের আমদানি-রফতানি বাড়তে পারে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। মোট আমদানি-রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬ কোটি ৫ লাখ টনে।
এবারের খাদ্যপণ্য উৎপাদন নিয়ে প্রাক্কলনে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক খাদ্য আমদানি ব্যয়ের হালনাগাদ হিসাবও প্রকাশ করেছে এফএও। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর বৈশ্বিক খাদ্য আমদানির পরিমাণ এর আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে কফি, চা, কোকো ও মসলাপণ্যের আমদানি ব্যয় ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ, ফল ও সবজির ৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং মাংসপণ্যের আমদানি ব্যয় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গত বছর খাদ্যশস্যের আমদানি ব্যয় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
এদিকে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম জুলাইয়ে দুই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এফএওর তথ্য অনুযায়ী, ভোজ্যতেলের উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি ও মাংসের রেকর্ড দামের প্রভাব অন্যান্য প্রধান পণ্যের মূল্যহ্রাসকে ছাপিয়ে গেছে। এফএওর খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক জুলাইয়ে গড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা জুনের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।